
রফিকুল ইসলাম খান।। পাইকগাছার কপিলমুনিতে চরভরাটি খাস জমি, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতারণাপূর্বক লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কপিলমুনি ইউনিয়ন মহিলা আথলীগের সাধারন সম্পাদক রেশমা আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ হয়েছে।
অভিযোগকারীরা বলছেন, রেশমা আক্তারের কাছে পাওনা টাকা চাইলে উল্টো তিনি তাদেরকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানির হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি তাদের স্বাক্ষর জাল করে ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে নানা তঞ্চকি চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন প্রতারিতরা।
লিখিত অভিযোগে জানানো হয়, পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেশমা আক্তার ও তার স্বামী স্থানীয় নাছিরপুর গ্রামের জামাল উদ্দীন মোড়ল নিজেদের ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে জাহির করে বিভিন্ন সময় এলাকার বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সরকারি খাস জমি, আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর, পানির ট্যাংকিসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা যেমন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘ দিন যাবৎ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হয়ে প্রতারিতরা তাদের কাছে প্রাপ্ত টাকা চাইলে তারা বিভিন্ন সময় নানা টালবাহানা শুরু করেন। এমনকি বেশি চাপা-চাপি করলে উল্টো তাদেরকে নানাবিধ হুমকি-ধামকি এমনকি মিথ্যা মামলায় জেল-হাজত খাটানোরও হুমকি দেন তারা।
একপর্যায়ে গতকাল প্রতারিতদের ৪ জন কপিলমুনির হাউলি গ্রামের দেবাশীষ মন্ডলের স্ত্রী মঙ্গলী মন্ডল, কাশিমনগরের নুর আলী সরদারের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে সুফিয়া বেগম, প্রতাপকাটি গ্রামের মৃত নাজিম উদ্দীন গাজীর স্ত্রী নাছিমা বেগম, নাছিরপুরের কালীপদ বিশ্বাসের স্ত্রী স্বরসতী বিশ্বাস তাদের কাছ থেকে রেশমা দম্পতি বিভিন্ন সময় যথাক্রমে ৮৩ হাজার টাকা, ২০ হাজার, ১৪ হাজার ও ৬০ হাজার টাকা নিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করছেন।
তাদের কাছে প্রাপ্ত টাকা চাইতে গেলে তারা তাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ এমনকি মিথ্যা মামলায় হয়রাণির হুমকি প্রদান করেন।
অভিযোগে আরো জানানো হয, রেশমা আক্তারের স্বামী নাছিরপুর গ্রামের মো: আজিজ মোড়লের ছেলে জামাল উদ্দীন মোড়ল প্রতাপকাটির মৃত নাজিম উদ্দীন গাজীর স্ত্রী নাছিমা বেগমের নিকট পাইকগাছা সহকারী জজ আদালতের এ্যাড. মো: মোহতাছিম বিল্লাহর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ প্রেরন করেছেন। যাতে উল্লেখ করেন যে, নাছিমা বেগম নগদ টাকার প্রয়োজনে জামালের নিকট থেকে গত ১৩ জুলাই ২০থ তারিখে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা নগদ গ্রহনে ১০ শতক জমি বিক্রি করতে চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন। এছাড়া গত ১২ নভেম্বর ২০থ তারিখের মধ্যে পনমূল্যের টাকা ফেরত না দিলে কোবলা দলিলপূর্বক জমির দখল বুঝিয়ে দিবেন বলেও উল্লেখ থাকে। প্রকৃত পক্ষে নাছিমা তাদের কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা নেওয়া তো দুরের কথা। উপরন্তু রেশমা তাকে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরসহ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে একটি ১০ শতক জমির পর্চা, আইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবিসহ ১৪ হাজার টাকা গ্রহন করেন। পরে সরকারী ঘর তো দুরের কথা, তার কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলে নানাবিধ মামলায় হয়রাণির হুমকি ও সর্বশেষ মিথ্যা বর্ণনায় ঐ লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন।
এর আগে পাওনা টাকা আদায়ে তারা স্থানীয় কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদ, পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, পাইকগাছা থানাসহ বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে কপিলমুনি ইউপি চেয়ারম্যান মো: কওছার আলী জোয়াদ্দারের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তার দফতরে একটি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা বলেন।
এব্যাপারে পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাস বলেন, দলের কেউ অপরাধ করলে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। দল তার দাযভার বহন করবেনা। তবে সে যদি প্রকৃতপক্ষে দোষী হন তাহলে তার শাস্তি কামনা করেন তিনি।
সর্বশেষ এব্যাপারে অভিযুক্ত রেশমা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাছিমা বেগমের কাছে তিনি জমি ক্রয় বাবাদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাবেন। তিনি জমিও দিচ্ছেননা। আবার টাকাও ফেরৎ দিচ্ছেননা। এমন পরিস্থিতিতে তিনি তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেছেন।